রামধনুর বালিশ

একটি ছোট বাগানে থাকত টুকু নামের এক খরগোশ। তার গা ছিল সাদা, আর কান দুটি ছিল লম্বা। টুকুর একটি নরম বালিশ ছিল। রাতে সে সেই বালিশে মাথা রাখত। কিন্তু ঘুমানোর আগে কারও সঙ্গে গল্প করতে তার খুব ইচ্ছে হতো। একদিন সকালে সে ঠিক করল, আজ বন্ধুদের সঙ্গে বসে একটি ছবির বই দেখবে।
টুকুর বইটিতে ছিল ফুল, পাখি, মেঘ আর রামধনুর ছবি। বইটি বুকে জড়িয়ে সে বাগানে গেল। সেখানে একটি ফোয়ারা ছিল। ফোয়ারার জল ওপরের দিকে উঠে আবার নিচে পড়ছিল। টুপটাপ, টুপটাপ! শুনে মনে হচ্ছিল, জল যেন ছোট্ট গান গাইছে। টুকু পাশে বসে বই খুলল। ঠিক তখনই পিউ নামের একটি পাখি উড়ে এসে তার পাশে বসল।
পিউ বলল, “ও টুকু, কী সুন্দর বই! আমিও কি দেখতে পারি?” টুকু হেসে বলল, “অবশ্যই! কাছে এসো।” দুজনে মিলে পাতায় পাতায় ছবি দেখল। পিউ ফুলের ছবি দেখে একটি মিষ্টি গান গাইল। টুকু গানের তালে কান নাড়ল। তাদের হাসি শুনে মিনি নামের এক কাঠবিড়ালি গাছ থেকে নেমে এল। তার ছোট্ট লেজটি খুশিতে দুলছিল।
মিনি বলল, “আমার জন্য একটু জায়গা হবে?” টুকু আর পিউ সরে বসল। এখন তিন বন্ধু একসঙ্গে বই দেখছে। একটি পাতায় বড় রামধনু আঁকা ছিল। মিনি লাল রং দেখাল। পিউ হলুদ রং দেখাল। টুকু নীল রং দেখাল। তারা কেউ সব রঙের নাম জানত না। তাতে কী! তারা একে অন্যের কথা শুনল আর নতুন রঙের নাম শিখল।
কিছুক্ষণ পরে আকাশের মেঘ সরে গেল। নরম রোদ পড়ল ফোয়ারার জলে। হঠাৎ জলের ছোট ছোট ফোঁটার ভেতর দেখা গেল একটুখানি রামধনু! “দেখো, বইয়ের রামধনু বাইরে এসেছে!” বলে টুকু হাততালি দিল। পিউ খুশিতে ডানা নাড়ল। মিনি চুপচাপ বসে রংগুলো দেখল। তিন বন্ধু পাশাপাশি বসে রইল। তাদের মনে হলো, একসঙ্গে দেখলে সুন্দর জিনিস আরও সুন্দর লাগে।
বিকেল হলে টুকু তার ছোট ঘরে বন্ধুদের নিয়ে গেল। সে তিনটি গাজরের টুকরো এনে সবার সামনে রাখল। তারপর তারা আবার বইটি খুলল। এবার টুকু ছবি দেখিয়ে নিজের মতো করে একটি গল্প বলল। পিউ গল্পে একটি গান যোগ করল। মিনি যোগ করল একটি হাসি। টুকু বলল, “একা বই দেখাও ভালো লাগে, কিন্তু তোমাদের সঙ্গে দেখলে আমার মন বেশি খুশি হয়।”
রাত নামলে পিউ আর মিনি টুকুকে শুভরাত্রি বলে নিজেদের ঘরে গেল। টুকু বইটি বালিশের পাশে রাখল। জানালা দিয়ে চাঁদের নরম আলো এল। সে ভাবল, কাল আবার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে। বন্ধুরা পাশে থাকলে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া যায়, মনও ভালো থাকে। টুকু বালিশে মাথা রাখল। তার মনে রামধনুর রংগুলো আস্তে আস্তে ভাসল। তারপর চোখ বুজে সে শান্ত ঘুমে ঢলে পড়ল।